
এ. জে. সি. বি. আঞ্জুমানে জামিয়াতে আহলুস সুন্নাহ কমিটি, বাংলাদেশ
প্রতিষ্ঠা ও পরিচিতি:
১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দের সিপাহী আজাদী আন্দোলনের মহানায়ক,
ইমামে আহলুস সুন্নাহ, মুরশিদে বরহক, মাহতাবে শরীয়ত, রাহনুমায়ে তরীকত,হযরতুল আল্লামা ফজলে হক ফারুকী খয়রাবাদী কাদরী চিশতী (রহঃ)-এর প্রখ্যাত ছাত্র ও খলিফা,উপমহাদেশের খ্যাতনামা অলিয়ে কামেল, তাজেদারে শরীয়ত,রাহনুমায়ে তরীকত, বাহরুল উলূম, কুতুবুল আলম,হযরত ছৈয়্যদ হাসান আলী কাদরী চিশতী (রহঃ),(নিবাস: ঘিলাতলা) তাঁর হাতেই এই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠাকাল:৩রা রমজান, ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে।১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে হুজুর কেবলা রাহঃ এর বেসাল হওয়ার পড়ে আবার ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে দেশ ভাগের পর আস্তে আস্তে সংগঠন টি দুর্বল হয়ে পরে। পূর্ণ প্রতিষ্ঠা:সিলসিলা কাদরিয়া-চিশতিয়া-খয়রাবাদিয়া ফায়েজে রাব্বানিয়া কেন্দ্র:উত্তরগ্রাম আঞ্জুমানে হাসানিয়া দরবার শরীফ পুনঃসংগঠন/আধুনিক কার্যক্রম সূচনা:১৩ই মুহারম, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে! পীর মুফতি সৈয়দ আবু ছিদ্দিকী নোমানী হাসানী কাদরী চিশতী পীর সাহেব কেবলা (মা.জি.আ.)।
পরিচিতি ও উদ্দেশ্য:
এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন, যা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদাভিত্তিক আদর্শে পরিচালিত। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর বাণীসমূহকে মাজহাবে আরবাআ (চার মাজহাব), তরীকত ও তাসাউফের বিশুদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য ও দায়িত্ব। এ মহান দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে—“বান্দার অন্তরে আল্লাহভীতি, ইখলাস, ইহসান, মারেফাতে ইলাহিয়া ও সুন্নাহভিত্তিক জীবন গঠন করা।”
👉 নিজের সংশোধন (ইসলাহে নফস) 👉 অপরের সংশোধন (ইসলাহে মুআশারা)
এই দুইটি মৌলিক কাজ বাস্তবায়ন করাই সংগঠনের প্রধান কর্মসূচি।
মুমিনের জন্য আবশ্যক হলো সকল মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করা।
وخاصةً مع الكبارِ
বিশেষ করে বড়দের সাথে।
لأنَّ احترامَهم من تعظيمِ شعائرِ اللهِ
কারণ তাদের সম্মান করা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের সম্মান।
ومن علاماتِ الإيمانِ الصادقِ
এটি সত্য ঈমানের লক্ষণ।
ومن فقدَ الأدبَ فقدَ نورَ الإيمانِ
যে আদব হারায়, সে ঈমানের আলো হারায়।
ومن تحلّى به نالَ رضا اللهِ في الدنيا والآخرةِ
আর যে আদব গ্রহণ করে, সে দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করে।
╚════════════════════════════╝
📜 সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ সংবিধান 📜
╚════════════════════════════════════╝সংবিধান
ধারা–১: নাম
এই সংগঠনের নাম:
এ. জে. সি. বি. আঞ্জুমানে জামিয়াতে আহলে সুন্নাহ কমিটি, বাংলাদেশ ।
ধারা–২: প্রকৃতি
এটি একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠান; যা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদার ভিত্তিতে পরিচালিত।
ধারা–৩: উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য
ক. কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা প্রচার করা।
খ. মাজহাবে আরবাআর আলোকে জীবন গঠন।
গ. সমাজে ইসলামী নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা।
ধারা–৪: মূল ভিত্তি
ক. কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস
খ. মাজহাবে আরবাআ (হানাফি, শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী)
গ. তাসাউফ ও তরীকতের বিশুদ্ধ ধারা
ধারা–৫: আদর্শিক দিকনির্দেশনা
সংগঠনটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া, ইখলাস ও মারেফাতে ইলাহিয়ার উন্নয়নে কাজ করবে।
ধারা–৬: প্রধান কার্যক্রম
ক. ওয়াজ, মাহফিল, দারস ও দাওয়াতি কার্যক্রম
খ. জিকির, মিলাদ, দুরুদ ও সালামে কিয়াম শরীফ আয়োজন
গ. ইসলাহে নফস ও ইসলাহে মুআশারা বাস্তবায়ন
ঘ. কুরআন-সুন্নাহ শিক্ষা প্রচার
ধারা–৭: আদর্শিক চেতনা
হুব্বে মোস্তফা ﷺ, আহলে বাইত, সাহাবায়ে কেরাম ও আওলিয়ায়ে কেরামের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জাগ্রত করা।
ধারা–৮: সদস্যপদ
ক. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদায় বিশ্বাসী যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম সদস্য হতে পারবেন।
খ. সংগঠনের নীতিমালা মানা বাধ্যতামূলক।
ধারা–৯: সদস্যদের দায়িত্ব
ক. সংগঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করা।
খ. শরীয়ত ও সুন্নাহ অনুসরণ করা।
৩. শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
ধারা–১০: সাংগঠনিক কাঠামো
ক. কেন্দ্রীয় কমিটি
খ. আঞ্চলিক/জেলা কমিটি
গ. স্থানীয় শাখা
ধারা–১১: অর্থায়
ক. অনুদান, দান, সদকা
খ. বৈধ উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ
গ. স্বচ্ছ হিসাব রক্ষণ
ধারা–১২: শৃঙ্খলা বিধান
নিয়ম লঙ্ঘনে সতর্কতা, স্থগিত বা বহিষ্কার করা হবে।
ধারা–১৩: সংশোধনী
কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ও পীর সাহেব কেবলার সম্মতিক্রমে সংবিধান সংশোধনযোগ্য।
ধারা–১৪: বিলুপ্তি
সংগঠন বিলুপ্ত হলে সম্পদ শরীয়তসম্মতভাবে দরবার শরীফের দ্বীনি কাজে ব্যয় হবে।
ধারা–১৫: অঙ্গীকার
সংগঠন ইসলামের শান্তি, মানবকল্যাণ ও নৈতিক উন্নয়নে কাজ করে যাবে।
।ধারা–৪: মূল ভিত্তি
এই সংগঠনের সকল কার্যক্রম নিম্নোক্ত ভিত্তির ওপর পরিচালিত হবে—👉ক. কুরআন সুন্নাহ এজমা কিয়াস👉খ. মাজহাবে আরবাআ (হানাফি, শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী)👉গ. তরীকত ও তাসাউফের বিশুদ্ধ ধারায়। এবংধারা–৫: আদর্শিক দিকনির্দেশনা
সংগঠনটি আধ্যাত্মিক উন্নয়ন, আত্মশুদ্ধি এবং সুন্নাহভিত্তিক জীবন গঠনে গুরুত্ব প্রদান করবে।এই সংগঠন শরীয়তের পূর্ণ আনুগত্যের ভিত্তিতে তরীকত, তাযকিয়ায়ে নফস, তাসফিয়ায়ে কালব ও মারেফাতে ইলাহিয়ার পথে আধ্যাত্মিক উন্নয়নে গুরুত্ব প্রদান করবে।”“তাসফিয়ায়ে কালব” (تصفية القلب) মানে👉 তাসফিয়া = পরিশুদ্ধ করা, পরিষ্কার করা👉 কালব = অন্তর/হৃদয়
অর্থাৎ— তাসফিয়ায়ে কালব = অন্তরকে সব ধরনের আধ্যাত্মিক রোগ, গুনাহ ও নাপাক চিন্তা থেকে পরিষ্কার করা।🌙 সহজভাবে বুঝলেএটা হচ্ছে—👉 অন্তরকে এমনভাবে পরিষ্কার করা যাতে সেখানে শুধু আল্লাহ জাল্লা জালালুহু এবং রাসুলেমোস্তফা ﷺ এর ভয় (তাকওয়া), ভালোবাসা (মাহাব্বত), ইখলাস ও নূর থাকে।
তাসফিয়ায়ে কালবের বিপরীত হলো
অন্তরের রোগগুলোই এর বিপরীত, যেমন—হিংসা (হাসাদ)অহংকার (কিবর)রিয়া (লোক দেখানো ইবাদত)দুনিয়ার অতিরিক্ত লোভ ঘৃণা ও বিদ্বেষএইগুলো থাকলে হৃদয় “কালিমাযুক্ত” হয়ে যায়। তাসাউফে এর গুরুত্ব তাসাউফে বলা হয়—👉 শরীয়ত → তরীকত → হাকীকত → মারেফাত এখানে তাসফিয়ায়ে কালব হলো সেই ধাপ, যেখানে—অন্তর পরিষ্কার হয়
আল্লাহর নূর প্রবেশ করে বান্দা ইখলাস অর্জন করে কিভাবে তাসফিয়ায়ে কালব হয়?
১. নিয়মিত জিকির ‘ মিলাদ।
২. দুরূদ শরীফ পাঠ ও সালামে কিয়াম শরিফ আদায়। ৩. তাওবা ও ইস্তিগফার মোরাকাবা মোশাহেদা।৪. নেককারদের সোহবত।৫. কুরআন তিলাওয়াত ও আমল৬. নিজের নফসের বিরুদ্ধে মুজাহাদা একটি গভীর কথা তাসাউফের ইমাম গন বলেন—
👉 “বাহ্যিক আমল যত সুন্দরই হোক, যদি অন্তর পরিষ্কার না হয়—তা কবুলের পথে বাধা ।”
🌹 সারকথা তাসফিয়ায়ে কালব মানে শুধু ভালো মানুষ হওয়া নয়—বরং এমন অন্তর তৈরি করা, যেখানে আল্লাহ ও রাসুলে মোস্তফা ﷺ ছাড়া অন্য কিছুর প্রভাব থাকে না পুনরায় উপস্থাপন ।ধারা–৬: প্রধান কার্যক্রম
১. :“ওয়াজ, মাহফিল, দারস, দাওয়াতি কার্যক্রম, জিকির, মিলাদ, দুরুদ ও সালামে কিয়াম শরিফের শরীয়তসম্মত আয়োজনের মাধ্যমে ইসলাহে নফস ও ইসলাহে মুআশারার কাজ পরিচালনা করা।”
ধারা৭. হুব্বে মোস্তফা ﷺ হুব্বে আহলে বাইত আজমাইন সাহাবায়ে কেরাম আওলিয়ায়ে চলেহিন গনদের মোহাব্বত ও ছোহবত সঠিক জ্ঞান প্রচার ক. কুরআন সুন্নাহর বিশুদ্ধ শিক্ষা প্রচার করা।খ. মাজহাবে আরবাআর অনুসরণে শরীয়তসম্মত জীবন গঠন করা।গ. তাসাউফ, তরীকত ও মারেফাতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন।ঘ. সমাজে নৈতিকতা, আদর্শ ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা।
📜 ৫ম ধারার তাসফিয়ায়ে কালব” (تصفية القلب) এর ব্যাখ্যা।
৫ম ধারার তাসফিয়ায়ে কালব” (تصفية القلب) এর ব্যাখ্যা👉 তাসফিয়া = পরিশুদ্ধ করা, পরিষ্কার করা👉 কালব = অন্তর/হৃদয় অর্থাৎ— তাসফিয়ায়ে কালব = অন্তরকে সব ধরনের আধ্যাত্মিক রোগ, গুনাহ ও নাপাক চিন্তা থেকে পরিষ্কার করা।🌙 সহজভাবে বুঝলেএটা হচ্ছে—👉 অন্তরকে এমনভাবে পরিষ্কার করা যাতে সেখানে শুধু আল্লাহ জাল্লা জালালুহু এবং রাসুলে মোস্তফা ﷺ এর ভয় (তাকওয়া), ভালোবাসা (মাহাব্বত), ইখলাস ও নূর থাকে।
তাসফিয়ায়ে কালবের বিপরীত হলো
অন্তরের রোগগুলোই এর বিপরীত, যেমন—হিংসা (হাসাদ)অহংকার (কিবর)রিয়া (লোক দেখানো ইবাদত)দুনিয়ার অতিরিক্ত লোভ ঘৃণা ও বিদ্বেষএইগুলো থাকলে হৃদয় “কালিমাযুক্ত” হয়ে যায়। তাসাউফে এর গুরুত্ব তাসাউফে বলা হয়—👉 শরীয়ত → তরীকত → হাকীকত → মারেফাত এখানে তাসফিয়ায়ে কালব হলো সেই ধাপ, যেখানে—অন্তর পরিষ্কার হয়
আল্লাহর নূর প্রবেশ করে বান্দা ইখলাস অর্জন করে কিভাবে তাসফিয়ায়ে কালব হয়?
ক. নিয়মিত জিকির ‘ মিলাদ।
খ. দুরূদ শরীফ পাঠ ও সালামে কিয়াম শরিফ আদায়। গ. তাওবা ও ইস্তিগফার মোরাকাবা মোশাহেদা।ঘ. নেককারদের সোহবত।৫. কুরআন তিলাওয়াত ও আমল৬. নিজের নফসের বিরুদ্ধে মুজাহাদা একটি গভীর কথা তাসাউফের ইমাম গন বলেন—
👉 “বাহ্যিক আমল যত সুন্দরই হোক, যদি অন্তর পরিষ্কার না হয়—তা কবুলের পথে বাধা ।”
🌹 সারকথা তাসফিয়ায়ে কালব মানে শুধু ভালো মানুষ হওয়া নয়—বরং এমন অন্তর তৈরি করা, যেখানে আল্লাহ ও রাসুলে মোস্তফা ﷺ ছাড়া অন্য কিছুর প্রভাব থাকে না ।ধারা–৬: প্রধান কার্যক্রম
. :“ওয়াজ, মাহফিল, দারস, দাওয়াতি কার্যক্রম, জিকির, মিলাদ, দুরুদ ও সালামে কিয়াম শরিফের শরীয়তসম্মত আয়োজনের মাধ্যমে ইসলাহে নফস ও ইসলাহে মুআশারার কাজ পরিচালনা করা।”
৭. হুব্বে মোস্তফা ﷺ হুব্বে আহলে বাইত আজমাইন সাহাবায়ে কেরাম আওলিয়ায়ে চলেহিন গনদের মোহাব্বত ও ছোহবত সঠিক জ্ঞান প্রচার ক. কুরআনুল সুন্নাহর বিশুদ্ধ শিক্ষা প্রচার করা।খ. মাজহাবে আরবাআর অনুসরণে শরীয়তসম্মত জীবন গঠন করা।গ. তাসাউফ, তরীকত ও মারেফাতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন।ঘ. সমাজে নৈতিকতা, আদর্শ ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা।